JOGESHKRISHNA YOGASHRAM TRUST
IS A RELIGIOUS CUM CHARITIBLE INSTITUTION
যেবা করে একমনে আমার সাধনা ।
সর্ব্বরূপে সিদ্ধ করি তাহার বাসনা ।।
আমাতে নিবিষ্ট মন থাকয়ে যাহার ।
সদা আমি করে থাকি তাদের উদ্ধার ।।
 
Your visitor number

 

 
     
 
ভগবান শ্রী শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী
 
১২৪৮ সালে শুভ ঝুলন-পূর্নিমাতে শ্রীধাম শান্তিপুরের বিশুদ্ধ অদ্বৈত্য-বংশে পরম ভাগবত পন্ডিতপ্রবর শ্রীমৎ আনন্দ কিশোর গোস্বামী প্রভুর পুত্ররূপে জন্মগ্রহন করিয়াছিলেন ভগবান শ্রী শ্রী বিজয়কৃষ্ণ গোস্বামী প্রভু । বাল্যজীবনে তাঁহার আদ্ভূত ক্রিয়াকলাপ দর্শন করিয়া আত্মীয়স্বজন ও শান্তিপুরবাসী এক সময়ে বিস্মিত হইয়া ছিলেন । যৌবনকালে, সরল বিশ্বাসে ব্রাহ্মধর্ম অবলম্বনপূর্বক পরদুঃখে কাতর হইয়া, তৎকালীন দূর্নীতি – দুরাচার দূরীকরণার্থে এবং সময়োচিত ধর্ম্মসংস্থাপনের জন্য, বিষম অত্যাচার উৎপীড়ন ভোগ করিয়াও, তিনি অদম্য উৎসাহে দেশের পুনরুত্থানের জন্য ব্রতী হম । হরিহরানন্দ সরস্বতী মহারাজের নিকট সন্ন্যাস গ্রহণের পর অচ্যুতানন্দ সরস্বতী নাম প্রাপ্ত হন ।
শ্রী শ্রী কুলদানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজ
 
শ্রী শ্রী কুলদানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের শুভ আবির্ভাব ১২৭৪ বঙ্গাব্দের ( ইং ১৮৬৮ খ্রীঃ ) ২৫শে কার্ত্তিক, রবিবার, বৈকুন্ঠ চর্তুদ্দশীর প্রদোষে ঢাকা জেলার, পশ্চিমপাড়ার ইছাপুর গ্রামে । পিতা কমলাকান্ত বন্দোপাধ্যায়, মাতা হরসুন্দরী দেবী । পিতা কমলাকান্ত বন্দোপাধ্যায় তন্ত্রসাধনায় সিদ্ধপুরুষ ছিলেন ।
   
বালিগঞ্জ গ্রাম্য যোগাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা শ্রীমৎ যোগেশ ব্রহ্মচারী মহারাজ
 
শ্রীমৎ যোগেশ ব্রহ্মচারী মহারাজের শুভ আবির্ভাব ১৮৯৫ সালে, চট্টগ্রাম জেলার গুজরা নয়াপাড়া গ্রামে । পিতা আচার্য শ্রীল পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য, মাতা শ্রীশ্রী বামাসুন্দরী দেবী । ১৯০৩ সালে যোগেশ ব্রহ্মচারী মহারাজের উপনয়ন এবং পিতার নিকট দীক্ষালাভ হয় । ১৯০৪ সালে বিশ্বেশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন । সহপাঠী ছিলেন সূর্য সেন ( অস্ত্রাগার লুন্ঠনের নেতা ) । পরলোকগতা জননীর সাক্ষাৎকারের জন্য পিতার সাহচর্যে বৌদ্ধধর্মে, ইসলাম ধর্মে, খ্রীষ্টান ধর্মে দীক্ষা লাভ করেন । যথাক্রমে ধর্মাস্কুর, জামীর আলি, যোসেফ নাম প্রাপ্ত হন । ১৯০৫ খ্রীষ্টাব্দে স্বদেশী আন্দোলনে যোগদান করেন । ১৯১২ খ্রীষ্টাব্দে ব্রাহ্মধর্মে দীক্ষালাভ করেন । স্বামী ব্রহ্মানন্দ ( রাখাল মহারাজ ), শ্রীশ্রীসারদা
মা, শ্রীশ্রী বামাক্ষ্যাপার সান্নিধ্য ও কৃপা লাভ করেন । ১৯২০ সালে এম. এ পরীক্ষায় ( দর্শন ) উত্তীর্ণ হন । তারপর মনোবিঞ্জানে ভর্ত্তি হন । মহাত্মা গান্ধীজির অনুরোধে ছাত্র-জনসভার সভাপতি পদ গ্রহন করে প্রথম বক্তৃতা দেন । ১৯২২ সালে শ্রীমতী নেলী সেনগুপ্তা দেবীর সহযোগিতায় লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়তে যান । সম্মেলনের প্রচার কার্য্যে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করেন । রাশিয়ার মহামান্য লেনিনের সাথে আলোচনায় ভারতীয় ধর্মশাস্ত্রের সমাজতান্ত্রিকতার ব্যাখ্যা করেন । ১৯২৪ সালে দুর্গা উপাধ্যায়ের কাছে বেদাধ্যয়ন করেন । তারপর হিমালয় পরিভ্রমণ করেন । ক্রমে ক্রমে বহু মহাপুরুষের কাছে দীক্ষা ও ব্রহ্মচর্যব্রত গ্রহণ করেন । ১৯২৬ সালে শ্রীশ্রীকুলদানন্দ ব্রহ্মচারী মহারাজের কাছে ব্রহ্মচর্য্যব্রত পুনরায় গ্রহন করে অচলানন্দ নাম প্রাপ্ত হন ।
   
যোগেশকৃষ্ণ যোগাশ্রমের প্রানপুরুষ – শ্রী শ্রী শ্যামল ব্রহ্মচারী মহারাজ
   
সোনামুখী (বাঁকুড়া) যোগেশকৃষ্ণ যোগাশ্রমের প্রান পুরুয – শ্রী শ্রী শ্যামল ব্রহ্মচারীজি ১৩৫৪ সালের ৩রা কার্ত্তিক (ইং ১৯৪৭ সালের ২১শে আক্টোবর) সকাল ৭ টা বেজে ৪৫ মিনিটে মঙ্গলবার মহাসপ্তমী তিথিতে বাঁকুড়া জেলার সোনামুখী থানার অন্তর্গত ভগবানপুর গ্রামে এক সচ্ছ্বল পরিবারে জন্মগ্রহন করেন । পিতার নাম ৺ধনঞ্জয় চট্টোপাধ্যায় ও মাতার নাম ৺শেফালিকা চট্টোপাধ্যায় । পিতা প্রতিষ্ঠিত ডাক্তার ছিলেন । ব্রহ্মচারীজির পৈতৃক গৃহে নিত্য লক্ষী-জনার্দন সেবিত হয় । ছাত্রাবস্থায় ব্রহ্মচারীজি অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন । সোনামুখী বিন্দুযামিনী জুবিলি হাইস্কুল হইতে কৃতিত্বের সহিত উচ্চ-মাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করিয়া বাঁকুড়া খ্রীষ্টান ( খৃষ্টান ) কলেজ হইতে বিঞ্জানে স্মাতক
ডিগ্রী লাভ করেন । পরে স্বীয় প্রচেষ্ঠায় ও একনিষ্ঠায় চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি পাশ করেন ও কলিকাতায় নিজস্ব চ্যাটার্ড ফার্ম গঠন করিয়া তাহার কর্মকান্ডের সহিত তিনি নিজেকে যুক্ত করেন । পরবর্তী জীবনে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে হিসাব শাস্ত্র বিষয়ে এগজামিনার ও স্কুটিনিয়ার হইয়াছিলেন । তিনি চ্যাটার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি পরীক্ষার মুখ্য পরিদর্শক ছিলেন । কলিকাতায় পড়াশুনা চলাকালীন বলীগঞ্জ গ্রাম্য যোগাশ্রমে প্রখ্যাত সদগুরু শ্রীশ্রীযোগেশ ব্রহ্মচারীজির সহিত সাক্ষাৎ, ঘনিষ্ঠতা ও তাঁর সান্নিধ্য লাভ করেন । গুরুদেব ওঁনার নিকট হইতে শুধু শুদ্ধ শ্রীশ্রীচন্ডী পাঠের ইচ্ছা প্রকাশ করেন ।
গুরুর ইচ্ছা তথা আদেশ শিরোধার্য করিয়া তিনি পৈতৃক সম্পত্তি এবং নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা ছাড়িয়া ব্রহ্মচর্য গ্রহন করেন । অবশেষে, ঈশ্বরের অম্বেষনে তীর্থ পরিক্রমা ও কঠোর সাধনায় দীর্ঘকাল নিজেকে নিয়োজিত করেন । অমরনাথ তীর্থক্ষেত্র পরিক্রমা শেষে দৈববাণী শ্রবণ করেন এবং সমস্ত পরিক্রমা ছাড়িয়া গুরু প্রতিষ্ঠিত আস্রমে আসন প্রতিষ্ঠা করেন । গুরুর আদেশে শুদ্ধ শ্রীশ্রীচন্ডী পাঠে নিরলসভাবে নিয়োজিত আছেন । গুরু কর্তৃক আদিষ্ট হইয়া সদ গুরু রুপে অত্মপ্রকাশ করেন । এবং অগণিত শিষ্য সন্তান পালনে ব্রতী আছেন । পদব্রজে শ্রীক্ষেত্র গমন ওঁনার সুকঠোর সাধনার অঙ্গ । আধ্যাত্মিক সাধনার দ্বারা সাধন পথে ওঁনার যা প্রাপ্তি ঘটেছে এবং উনি যে সত্যের সন্ধান পেয়েছেন তা তাঁর অগনিত ভক্ত ও শিষ্য সন্তানেরা তাদের জীবনক্ষেত্রে এই সুমহান দান মর্মে উপলব্ধি করে চলেছেন ।